আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির ০৫টি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় মাদকদ্রব্য এবং প্রসাধনী মালামাল জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্তের বিভিন্ন স্থান দিয়ে ও মাদক ও অন্যান্য মালামাল চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, ০৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত ০৮:৪০ ঘটিকায় বালারহাট বিওপির আওতাধীন বালাটারী (থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম), ০৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ ভোর ০৩:২০ ঘটিকায় রামখানা বিওপির আওতাধীন সরকারটারী (থানা:নাগেস্বরী, জেলা-কুড়িগ্রাম) ও সকাল ০৭:১০ ঘটিকায় ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন উত্তর ঝাউরানী (থানা:হাতিবান্ধা ও জেলা-লালমনিরহাট) নামক স্থানে ০৩টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানসমূহ চলাকালীন কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে টহল দলের সদস্যরা ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে উক্ত স্থানে তল্লাশী করে যথাক্রমে-ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ১৯৯ বোতল, ফেয়ারডিল ৫৬ বোতল এবং গাঁজা ০৫ কেজি জব্দ করা হয়।
এছাড়াও, মোগলহাট বিওপি কর্তৃক ০৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত ০৯:২০ ঘটিকায় চরফলিমারিতে এবং ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল ০৭:০০ ঘটিকায় কর্নপুর (থানা ও জেলা-লালমনিরহাট) নামক স্থানে ০২টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালীন সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের বহনকৃত মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী মালামাল এবং হ্যাপিগোল্ড মদ ১৯ বোতল জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ১৯৯ বোতল, যার সিজার মূল্য ৭৯,৬০০/-, ফেয়ারডিল সিরাপ ৫৬ বোতল, যার সিজার মূল্য ২২,৪০০/-, মদ ১৯ বোতল, যার সিজার মুল্য ২২,৮০০/- এবং গাঁজা ০৫ কেজি, যার সিজার মূল্য ১৭,৫০০/-টাকা, এবং ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী মালামাল, যার সিজার মূল্য ২,৮৩,৬০০/- টাকাসহ সর্বমোট সিজার মুল্য ৪,২৫,৯০০/-(চার লক্ষ পচিঁশ হাজার নয়শত টাকা। এছাড়াও চোরাচালান ও মাদক চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন,“দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার, যা চোরাচালান ও মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।